এই মুহূর্তে এই বাংলায় জেলার খবর ভারতবর্ষ-বিশ্ব টুকরো খবর রকমারি জ্যোতিষ তন্ত্র-মন্ত্র যোগাযোগ বিজ্ঞাপন
×

নেই পেল্লাই বাড়ি - নেই ঝা চকচকে গাড়ি, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের আলোয় থাকতে বিমুখ চিন্তামনি-র রিচ বাড়ি বাড়ি! তপনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

...

Suryasikha News Admin


দক্ষিণ দিনাজপুর: নেই পেল্লাই বাড়ি - নেই ঝা চকচকে গাড়ি, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের আলোয় থাকতে বিমুখ চিন্তামনি-র রিচ বাড়ি বাড়ি! তপনের রাজনীতি - দুর্ণীতি নিয়ে কথা উঠলেই এতদিন রাজ্যের বিরোধীদের হাতে অস্ত্র ছিল গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একদা রাজ্যের শাসক দলের প্রাক্তন মন্ত্রীর এক পেল্লাই বাড়ির ছবি। যা কার্যত অস্বস্তিতে ফেলত রাজ্যের শাসক দলকে। ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারে একেবারে উল্টো চিত্র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারে। সাদা মাটা জীবন যাপন করা গ্রামের আদিবাসী মেয়ে চিন্তামনি-ই কি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাম - বিজেপির কাছে, এই চর্চায় বর্তমানে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক মহলের অন্দরে। রাজ্য জুড়ে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে যখন দুর্ণীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ তুলে সরব রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। তখন জেলা পরিষদ আসনে জয়ের হ্যাট্রিক করা বর্তমানে তপন বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী চিন্তামনি বিহা-র স্বচ্ছ ভাবমূর্তি - সাদা মাটা জীবন যাপন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তপন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের অংকের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। অতীতে তপন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা ৬ বার জয়ী হয় আরএসপি। এরপর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বার তপনে ঘাসফুল ফোটে। যদিও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজ্যে গেরুয়া ওয়েভে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হয় তপন আসনটি। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার তপন আসনে পদ্মফুল ফোটে। ২০২১-এর নির্বাচনে তপন বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বুধরাই টুডু পেয়েছিলেন ৮৪ হাজার ৩৮১ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কল্পনা কিস্কু পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৭৩১ ভোট। বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান ছিলেন ১৬৫০ ভোট। অতীতের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে দেখা যায় এই কেন্দ্রে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল আরএসপি। তবে ২০২১-এর নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই কেন্দ্রে ভোটের সমীকরণ বদলেছে অনেকটাই। তপন বিধানসভা কেন্দ্রে বামেদের সাংগঠনিক শক্তি ক্রমাগত দূর্বল হয়েছে একদিকে যেমন তেমনি অন্যদিকে বামেদের ভোট ব্যাঙ্কেও ধস নেমেছে। অপরদিকে জেলা পরিষদ আসনে জয়ের হ্যাট্রিক করা চিন্তামনি বিহা-কে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে বসায় তৃণমূল কংগ্রেস। আবার তার পরবর্তী সময়ে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তপন বিধানসভা কেন্দ্র এলাকা থেকে ১০ হাজারেরও বেশী ভোটে এগিয়ে ছিল, যা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। ২০২৬-এ তপন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে বুধরাই টুডু, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে চিন্তামনি বিহা এবং আরএসপি-র প্রার্থী হয়ে বাপ্পাই হরো ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। বাম - বিজেপি - তৃণমূল সবপক্ষই নির্বাচনী প্রচারে ঝাপিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে ৩ জন প্রার্থীই দিনভর ঘুরছেন গ্রামের পর গ্রাম। পরিসংখ্যানগত তথ্য বলছে নির্বাচনী প্রচারে এগিয়ে চিন্তামনি বিহা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে বসার পর অতীত সময়ে তপন বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় অধিকাংশ উন্নয়ন কাজের তদারকি - উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চিন্তামনি-র উপস্থিতি ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারে জনসংযোগের স্থাপনের ক্ষেত্রে চিন্তামনি-র সহায়ক হয়েছে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে চোখ রাখলে দেখা যাবে সুকান্ত ঝড়ে তপনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামলেও চিন্তামনি বিহা-র জেলা পরিষদ আসন এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস লিড ধরে রেখেছিল। তবে রাজনীতিতে ডিভেন্সিভ হিসাবে পরিচিত চিন্তামনি বিহা বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নেমে বর্তমানে সরাসরি বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মানুষের পাশে না থাকার এবং এলাকায় উন্নয়ন না করার অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন। চিন্তামনি বিহা বলেন এখানকার রাস্তাঘাট কাচা ছিল, এখানকার মা বোনরা অসুস্থ হলে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল না, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই এলাকার চিত্র বদলে গেছে। তিনি জানান তপন বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় প্রধান সমস্যা ছিল পানীয় জলের সমস্যা। ইতিমধ্যেই প্রচুর গ্রামে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌছে গেছে, বাকি জায়গাতেও পৌছে যাবে। তিনি দাবী করেন তিনি জেলা সভাধিপতি হওয়ার অর এই এলাকায় একাধিক বড় বড় রাস্তাঘাট তিনি নির্মাণ করিয়েছেন। অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী বুধরাই টুডু-র বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেস-ই মানুষের পাশে ছিল না, চুরি করতে ব্যাস্ত ছিল। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন তিনি কেন্দ্র থেকে অনেক ফান্ড নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন উন্নয়নের কাজ করতে দেয়নি। আরএসপি প্রার্থী বাপ্পাই হরো-র বক্তব্য তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার পানীয় জলের সমস্যা, এলাকার বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মেটানোর জন্য তিনি চেষ্টা করবেন। উনার বক্তব্য তপনে রাস্তাঘাটেরও সমস্যা রয়েছে - বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যে সমস্যা সমাধানের তিনি চেষ্টা করবেন। সুতরাং তপন বিধানসভা কেন্দ্রে কার উপর আস্থা রাখে নির্বাচকরা তা জানা যাবে আগামী ৪-ঠা মে ভোট গণনার দিন।

Tag: Breaking news, Today news, Suryasikha news,Hit news

Total Post View : 67554


সম্পর্কিত খবর